হজ্ব পালনের সময় কি কি দোয়া পড়তে হয়?

alt="হজ্ব পালন করা ফরজ"

হজ্ব বলতে কি বুঝায়? 


হজ্ব বা হজ্জ বা হজ (আরবি: حج‎‎) :
" ইসলাম ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ মুসলমানদের জন্যে হজ্ব একটি আবশ্যকীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা। এটি ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি । শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ সম্পাদন করা ফরজ । আরবি জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজের জন্য নির্ধরিত সময়। হজ পালনের জন্য বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা নগরী এবং সন্নিহিত মিনা, আরাফাত, মুযদালিফা প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান আবশ্যক। শারীরিক ও আর্থিকভাবে হজ পালনে সক্ষম হয়ে ওঠার অবস্থাকে ইস্তিতাহ বলা হয় এবং যে মুসলমান এই শর্ত পূরণ করে তাকে মুস্তি বলা হয়। হজ্ব হলো মুসলিম উম্মাহের সংহতি এবং আল্লাহর নিকট আনুগত্য প্রকাশের প্রদর্শনী। যিনি হজ্ব সম্পাদনের জন্য গমন করেন তাকে বলা হয় হাজী।

হজ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে একটি যাত্রায় অংশ নেওয়া, যা ভ্রমণের বাহ্যিক কাজ এবং উদ্দেশ্যগুলির অভ্যন্তরীণ কাজ উভয়কেই বোঝায়।" (উইকিপিডিয়া)

প্রতিবছর বিশ্বের অনেক দেশ থেকে লাখো মুসলিম পবিত্র হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিতে পাড়ি জমান। একই ভাবে, প্রত্যেক বছর অসংখ্য বাংলা ভাষাভাষী মানুষ হজ্বের উদ্দেশ্যে মক্কা সফর করেন। হজ্ব পালনের সময় সকল হাজীগণের কিছু নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার বিধান রয়েছে।

আজকে আমরা "হজ্ব পালনের সময় কোন স্থানে কোন দোয়া পড়তে হয়" - সে সম্পর্কে জানবো।


হজ্ব পালনের সময় যে সকল দোয়া পড়তে হয় :

১) আরাফার দিনে পড়ার দোয়া :


لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، وهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ। লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

অর্থ: নেই কোন উপাস্য এক আল্লাহ ব্যতীত। তাঁর শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর জন্য। প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। (তিরমিজীঃ ৩৫৮৫)

২) বাইতুল্লাহ থেকে বিদায় নেয়ার সময় পড়ার দোয়া :

পবিত্র বাইতুল্লা থেকে মুসল্লিগণ যখন বাইতুল্লাহ থেকে বিদায় নেন তখন তাদের একটি দোয়া পড়ার বিধান রয়েছে। 

اَللّٰهُمَّ لَا تَجْعَلْ هٰذَا اَخِرَ الْعَهْدِ بِبَيْتِكَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা লা তাজ‘আল হাযা আখিরাল আহদি বিবাইতিক।

৩) জামরাতে কঙ্কর (পাথর) নিক্ষেপের দোয়া 

সকল হাজীগণকে হজ্ব পালনের এক সময় জামারাতে এসে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে পাথর (কঙ্কর) নিক্ষেপ করতে হয়। এ সময় জামারাতে কঙ্কর (পাথর) নিক্ষেপ করার জন্য একটি দোয়া পড়ার বিধান রয়েছে। 
اللهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবর
অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ

প্রত্যেকবার রাসুলুল্লাহ (সঃ) তিন জামরাতের যেকোন জামরাতে কঙ্কর তথা পাথর নিক্ষেপ করতেন তখন বলতেন:
اللهُ أَكْبَرُ

প্রথম জামরাত শেষ হওয়ার পরে, তিনি একটু উচু কিবলার সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়ে, তার হাত উত্থাপিত করতেন এবং দোয়া করতেন। তিনি একই কাজ দ্বিতীয় জামরাতে কংকর নিক্ষেপের সময়েও করতেন কিন্তু তৃতীয়বার করতেন না।

উল্লেখ্য, জামরাত হচ্ছে মিনায় শয়তানকে পাথর মারার জন্য নির্ধারিত স্থান। এখানে হাজীদের নিয়ম মতো শয়তানকে পাথর মারতে হয়। যখন হজরত ইব্রাহীম (আ.) হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন শয়তান এ জায়গায় তাঁকে বিরত রাখার জন্য তাঁর মধ্যে দুর্বলতা সৃষ্টির মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। সেই ঘটনা স্মরণ করে এখানে শয়তানকে পাথর মারা হয়। (বুখারীঃ১৭৫১)

৪) যমযমের পানি পান করার দোয়া:


اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَّرِزْقًا وَّاسِعًا وَّشِفَاءً مِّنْ كُلِّ دَاءٍ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান না ফি'আ, ওয়া রিযক্বন ওয়া সি‘আ, ওয়া শিফা আম মিন কুল্লি দা ইন।

অর্থ :হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট উপকারী ইলম এবং হালাল প্রশস্ত রিয্‌ক এবং সর্বপ্রকার রোগের শিফা চাচ্ছি।
(মুসতাদরাকে হাকেম হাদীস নং-১৭৩৯, দারাকুতনী হাদীস নং-২৭১২, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদীস নং-৯১১২)

আলী ইবন মুহাম্মাদ (র)...মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন আবু বকর (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাস (রা)-এর নিকট বসা ছিলাম । এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এলো । তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বলল, যমযমের নিকট থেকে । তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি তা থেকে প্রয়োজন মত পান করেছ? সে বলল, কিরুপে ? তিনি বললেন, তুমি যখন তা থেকে পান করবে, তখন কিবলামুখী হবে, আল্লাহর নাম স্বরণ করবে, তিনবার নিঃশ্বাস নিবে এবং তৃপ্তি সহকারে পান করবে । পানি পান শেষে তুমি মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করবে । কারণ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে নিদর্শন এই যে, তারা তৃপ্তিসহকারে যমযমের পানি পান করে না। (সুনান ইবন মাজা, হাদীস নং- ৩০৬১)

৫) সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ে আরোহনের দোয়া:

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ

أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِهِ

اللهُ أَكْبَرُ ، اللهُ أَكْبَرُ ، اللهُ أَكْبَرُ

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ

উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওতা মিন শাআইরিল্লাহ।


উচ্চারণ: আবদাউ বিমা বাদাল্লাহু বিহী।

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর।

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওহাদাহু লা শরীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু,ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইন কাদির। লা ইলাহা ইল্লাহু ওহাদাহু আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল  আহযাবা ওয়াহদাহু।

অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা-মারওয়া পাহাড় আল্লাহর নিদর্শানাবলীর মধ্য থেকে অন্যতম নিদশর্ন। 

অর্থ:আল্লাহ যেভাবে শুরু করেছেন, আমিও সেভাবে শুরু করছি।

অর্থ:আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

অর্থ:আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তিনি একক। তার কোন শরীক নাই।সকল ক্ষমতা তার এবং সকল প্রশংসার উপযুক্ত তিনিই।তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি একক,তিনি তার ওয়াদা পূরন করেন, তার বান্দাদের সাহায্য করেন এবং একাই সম্মিলিত দুশমন বাহিনীকে পরাজিত করেন।

হযরত জাবির (রাঃ) হইতে বর্নিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সঃ) যখন সাফা পাহাড়ে আরোহন করতেন তখন বলতেনঃ

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ
أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِهِ

এরপর সাফা পাহাড়ের শীর্ষে আরোহনের পর যখন কাবা শরীফ দেখতে পেতেন তখন বলতেনঃ

اللهُ أَكْبَرُ ، اللهُ أَكْبَرُ ، اللهُ أَكْبَرُ

তারপর তিনি সাফা পাহাড়ে উঠে, কাবামুখী হয়ে  নীচের দোয়া ৩ বার  পড়তেনঃ

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ

আজকের আর্টিকেলটি (হজ্ব পালনের সময় কি কি দোয়া পড়তে হয়?)  পছন্দ হলে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দেয়ার অনুরোধ রইলো। আর যদি আপনাদের মনে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে তা নিচে কমেন্ট করেও জানাতে পারেন।

নবীনতর পূর্বতন