মানহানি মামলা কি? মানহানি মামলা প্রতিরোধের উপায়?

মানহানি মামলা প্রতিরোধের উপায়

জীবনে চলার পথে আপনিও হয়তো মানহানি মামলার কথা শুনে থাকবেন। আদতে "মানহানি মামলা কি" এবং "মানহানি মামলা প্রতিরোধের উপায়" - সম্পর্কে আজকে আমরা জেনে নিব।

মানহানি মামলা কি?

প্রায়শই পত্রপত্রিকার খবর বা ছবিকে কেন্দ্র করে মানহানির সংবাদ শোনা যায়। রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীরাই সাধারণ এধরনের মানহানি মামলা করে থাকেন। মানহানি এমন এক ধরনের ধরনের অপরাধ, যেটি ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় প্রকারের হতে পারে। ফৌজদারি আদালতে মানহানি মামলা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি কারাদ- কিংবা অর্থদন্ডে দন্ডিত হন। পক্ষান্তরে দেওয়ানি আদালতে মামলা হলে এবং সেই মামলায় বাদি জয়ী হলে বিবাদী থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ আদায় করতে পারেন। বাংলাদেশের দন্ডবিধির ৪৯৯ ধারা অনুসারে যে ব্যক্তি মানহানির উদ্দেশ্যে বা মানহানিকর জেনে বা উদ্দেশ্যমূলক শব্দাবলি বা চিহ্নাদি বা দৃশ্যমান কল্পস্মৃতির সাহায্যে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এমনভাবে কোনো নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করে যে, সেই নিন্দাবাদ উক্ত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করবে, সেই ব্যক্তি কিছু ব্যতিক্রম অবস্থা ছাড়া উক্ত ব্যক্তির মানহানি করেছে বলে ধরা হবে।

আরো পড়ুনঃ ফৌজদারি মামলা কি?



এছাড়া যদি কোনো মৃত মানুষের বিষয়ে মানহানিকর কোন কিছু বললে বা প্রকাশ করলেও তা মানহানির অপরাধ হবে। এমনকি যদি কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে মানহানিকর কিছু বললে বা প্রকাশ করলেও তা মানহানির অপরাধের পর্যায় পড়বে।

তবে মানহানিকর তখনি হবে যখন বক্তব্যটি বা প্রকাশনাটি সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে নৈতিক ভাবে হেয় করে বা তার চরিত্রকে নিচু করে।

মানহানি মামলা প্রতিরোধের উপায়

আইনে এমন কিছু ব্যতিক্রম অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির নামে মানহানিকর কিছু বললে, লিখলে বা প্রচার করলেও দন্ডবিধির ৪৯৯ ধারার অধীনে মানহানির অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হবে না। যেমনঃ

(১) জনগণের কল্যাণার্থে কারো প্রতি সত্য দোষারোপ করলে, তাতে মানহানি হবে না।

(২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করলে তা মানহানির শামিল হবে না।

(৩) আদালতসমূহের কার্যবিবরণী প্রতিবেদন প্রকাশ করা মানহানির অন্তর্ভুক্ত হবে না।

(৪) যে কোনো জনসমস্যা সম্পর্কে কোনো ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎবিশ্বাসে অভিমত প্রকশ করা মানহানির শামিল নয়।

আরো পড়ুনঃ কোন দেওয়ানি আদালতে মামলা করবেন


(৫) আদালতে সিদ্ধান্তকৃত মামলার দোষ, গুণ বা সাক্ষীদের সম্পর্কে বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ সম্পর্কে অভিমত মানহানির পর্যায়ে পড়বে না।

(৬) গণঅনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানাবলি সম্পর্কে কোনো মতামত প্রদান মানহানি নয়।

(৭) কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সৎবিশ্বাসে কারো সম্পর্কে অভিযোগ করা হলে সেটিও মানহানি হবে না। যেমন-পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে সৎ বিশ্বাসে অভিযোগ।

(৮) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার বা অন্য কারো স্বার্থ রক্ষার্থে দোষারোপ করা মানহানি নয়।

(৯) গণকল্যাণার্থে সতর্কতা প্রদানের উদ্দেশ্যে কারো সম্পর্কে কিছু বলা হলে, সেটিও মানহানি হবে না।

(১০) সরল বিশ্বাসে কারো বিরুদ্ধে নালিশ করলে।

আরো পড়ুনঃ পুলিশ থানায় মামলা না নিলে কি করবেন 


মানহানি মামলার শাস্তি :

👉দণ্ডবিধি আইনের ৫০০ ধারায় বলা হয়েছে যে, মানহানির জন্য ২ বছর পর্যন্ত জেল অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়া যাবে।

👉মানহানির মামলা কগ্নিজিবল নয়। অর্থাৎ কোর্ট সরাসরি মামলা আমলে নিতে পারে না আবার পুলিশ কোর্টের আদেশ ছাড়া আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনা।

👉এসব মামলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দায়ের করা হলে আদালত আসামিকে সমন দিয়ে তলব করে মামলাটি বিচার করতে পারেন।তবে এই মামলা জামিনযোগ্য এবং মিমাংসাযোগ্য।

আজকের আর্টিকেলটি (মানহানি মামলা কি? মানহানি মামলা প্রতিরোধের উপায়? )  পছন্দ হলে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দেয়ার অনুরোধ রইলো। আর যদি আপনাদের মনে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে তা নিচে কমেন্ট করেও জানাতে পারেন।

যে কোন আইনী পরামর্শের জন্যে যোগাযোগ করতে ইমেইল করুন -
Email: info.shuhag@gmail.com
অথবা,
কন্টাক্ট বক্সে মেসেজ করতে পারেন।

নবীনতর পূর্বতন