ট্রেড লাইসেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন?আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও টিন সার্টিফিকেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

alt="ট্রেড লাইসেন্স কি এবং এর ব্যবহার বিধি""
ট্রেড লাইসেন্স কি?

 

ট্রেড লাইসেন্স (Trade Licence) কি?

Trade মানে হচ্ছে ব্যবসা আর Licence মানে হচ্ছে অনুমতি অর্থাৎ ট্রেড লাইসেন্স মানে হচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র। এই ট্রেড লাইসেন্স বাংলাদেশ সরকার সিটি কর্পোরেশন কর বিধান – ১৯৮৩ (City Corporation Taxation Rules, 1983) এর অধিনে ইস্যু করে থাকে। যেহেতু এই ট্রেড লাইসেন্স সরকারী প্রতিষ্ঠান হতে ইস্যু করা হয়, তাই আপনার ব্যবসার বৈধতার প্রতীক হচ্ছে এই ট্রেড লাইসেন্স।

সিটি কর্পোরেশন কর বিধান – ১৯৮৩ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্সের সূচনা ঘটে। এই লাইসেন্স উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে থাকে। ব্যবসার প্রথম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স (Trade Licence)। আমাদের দেশে এমন অনেক সফল উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ী আছেন যারা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছেন কিন্তু এটা সম্পুর্ণ অবৈধ এবং আইন বিরোধী।

কোথায় ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়? ( Where is the trade license provided?)

সাধারণত সিটি করর্পোরেশন,পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে।

কিভাবে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়?

নির্ধারিত আবেদন ফর্মে ট্রেড লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হয়। উদ্যোক্তার আবেদনের ভিত্তিতে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। আবেদন ফরম এর সাথে উদ্যোক্তাকে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ব্যবসার ধরনের উপর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স এর আবেদন এর সাথে কি কি কাগজ পত্র জমা দিতে হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিবেন।

নিম্নে বিভিন্ন প্রকার ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স করতে কি কি ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে তার একটি তালিকা দেয়া হলো :

👉 সাধারণ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে

দোকান ভাড়ার চুক্তি পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, নিজের দোকান হলে ইউটিলিটি বিল এবং হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোদের এর ফটোকপি। আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয় তাহলে ১৫০/৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে পার্টনারশীপের অঙ্গীকারনামা/শর্তাবলী জমা দিতে হবে।

👉 ফ্যাক্টরী/কারখানার ট্রেড লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের কপি। প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরী/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ নকশা/লোকেশন ম্যাপ। প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরী/কারখানার পাশ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা। ফায়ার সার্ভিস এর ছাড়পত্র। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর নিয়ম – কানুন মেনে চলার অঙ্গীকারনামা ১৫০/৩০০ টাকারজুডিশিয়ার স্ট্যাম্প এ স্বাক্ষরিত।

Pro Tips 1 : আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স করুন সহজেই

alt="আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স তৈরী করুন সহজেই"


যারা দেশে এক্সপোর্ট এন্ড ইমপোর্ট অথবা আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসা করতে আগ্রহী তাদের জন্য এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ টিপস। এখানে এক্সপোর্ট এন্ড ইমপোর্ট ব্যবসার লাইসেন্স করতে কি লাগে এবং কত ফি দিয়ে করতে হয়? তার সম্পর্কে কিছু মূল্যবান তথ্য দেওয়া হল।

আইআরসি এবং ইআরসি জারি
বর্তমানে একজন আমদানিকারক আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র (আইআরসি) ও রপ্তানিকারক রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র (ইআরসি) এর মাধ্যমে যে কোন আমদানি ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য যেকোন পরিমাণ ও মূল্যসীমা নির্বিশেষে আমদানি ও রপ্তানি করতে পারে। এক্ষেত্রে কোন সংস্থা/বিভাগের কোনরূপ অনুমতির প্রয়োজন হয় না। আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র জারির পদ্ধতি সহজ এবং স্বচ্ছ। 

আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র জারির ক্ষেত্রে নিম্নেবর্ণিত কাগজাদি প্রয়োজনঃ

(১) ট্রেড লাইসেন্স;
(২) চেম্বার অথবা স্বীকৃত ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বৈধ সদস্যতা সনদপত্র;
(৩) টিআইএন;
(৪) ব্যাংক প্রত্যায়ন পত্র;
(৫) লিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রা, জয়েন্ট স্টক কোম্পানী কর্তৃক অনুমোদিত সংঘ স্মারক ও সংঘবিধি এবং সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন।

আরো পড়ুনঃ উইন্ডোজ ১০ সেটাপ করুন নিজেই

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড কি?

উল্লিখিত কাগজ দাখিল করলে তিন ঘন্টার মধ্যে অর্থাৎ একই দিনে আমদানি ও রফতানি সনদ জারি করা হয়।

আমদানিকারকগণ বার্ষিক মোট আমদানি মূল্যসীমার ভিত্তিতে ৬ (ছয়) টি শ্রেণীতে শ্রেণীভুক্ত এবং আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র জারির ক্ষেত্রে নিন্মোক্ত হারে ফিস প্রদান করতে হয় এবং রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র জারির ক্ষেত্রে নিন্মোক্ত হারে ফিস প্রদান করতে হয়।

আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স বানাতে কি কি লাগবে?

আপনারা যদি কেউ মনে করেন দেশে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি কিংবা রপ্তানি করবেন কিন্তু কিভাবে আমদানি ও রপ্তানি সার্টিফিকেট বানাতে হয় জানেন না তারা বিস্তারিত জেনে নিন-

আমাদের দেশে আমদানি এবং রপ্তানি এই দুই কাজের জন্য সরকার বিশেষ দুই লাইসেন্স দিয়ে থাকে এক্ষেত্রে আপনি দেশে আমদানি এবং রপ্তানি যোগ্য যেকোনো পণ্য যেকোনো পরিমাণে আনতে বা বাইরে পাঠাতে পারবেন। আর এই লাইসেন্স করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনেক স্বচ্ছ এবং নিরাপদ। নিচে বিস্তারিত দেয়া হলো।

আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র জারির জন্য আপনার যা যা লাগবে-
১) ট্রেড লাইসেন্স;
২) চেম্বার অথবা স্বীকৃত ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বৈধ সদস্যতা সনদপত্র;
৩) টিআইএন;
৪) ব্যাংক প্রত্যায়ন পত্র;
৫) লিমিটেড কোম্পানীর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার, জয়েন্ট স্টক কোম্পানী কর্তৃক অনুমোদিত সংঘ স্মারক ও সংঘবিধি এবং সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন।

উপরের সব কাগজ পত্র যদি আপনার করা থাকে তবে তা নিয়ে আপনি তিন ঘন্টার মধ্যে অর্থাৎ একই দিনে আমদানি ও রফতানি সনদ জারি করিয়ে নিতে পারবেন।

আমদানি রপ্তানি কারকদের জন্য ৬টি ধাপে আমদানি রপ্তানি সীমার উপর ফিস প্রদান করতে হয়ঃ
১) ১ লক্ষ টাকার সমমান পণ্য এর ক্ষেত্রে
Registration Fee -১,০০০
Renewal Fee – ১,০০০

২) ৫ লক্ষ টাকার সম পরিমান পণ্য এর ক্ষেত্রে
Rgistration Fee – ২,০০০
Renewal Fee – ২,০০০

৩) ১৫ লক্ষ টাকার সম পরিমান পণ্য এর ক্ষেত্রে
Registration Fee – ৩,০০০
Renewal Fee – ৩,০০০

৪) ৫০ লক্ষ টাকার সম পরিমান পণ্য এর ক্ষেত্রে
Registration Fee ৬,০০০
Renewal Fee – ৫,০০০

৫) ১ কোটি টাকার সম পরিমান পণ্য এর ক্ষেত্রে
Registration Fee – ১০,০০০
Renewal Fee – ৪,০০০

৬) ১ কোটির উপরে পরিমান পণ্য এর ক্ষেত্রে
Registration Fee – ১৫,০০০
Renewal Fee – ১০,০০০

👉 সি.এন.জি ষ্টেশন/দাহ্য পদার্থ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে

বিস্ফোরক অধিদপ্তর/ ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/ অনুমতিপত্র।

👉 ক্লিনিক/প্রাইভেট হাসপাতাল ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে

ডিরেক্টর জেনারেল – স্বাস্থ্য, কর্তৃক অনুমতিপত্র।

👉 লিমিটেড কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে

কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল। সার্টিফিকেট অব ইন-কর্পোরেশন।

👉 প্রিন্টিং প্রেস এবং আবাসিক হোটেল এর লাইসেন্সের ক্ষেত্রে

ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক অনুমতিপত্র।

👉 রিক্রুটিং এজেন্সির ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে

মানবসম্পদ রপ্তানী ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স।

👉 অস্ত্র ও গোলাবারুদ এর ক্ষেত্রেঃ

অস্ত্রের লাইসেন্স।

Pro Tips 2 : আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স করার নিয়ম

alt="বন্দুকের লাইসেন্স করবেন যেভাবে"


দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ঢাকায় বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান দেখা যায়। তবে এসব দোকান থেকে চাইলেই যে কেউ আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করতে পারে না। আবার যারা ক্রয় করতে পারেন তারা ক্রয়ের পর সরাসরি তা বহন করতে পারেন না। এজন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।

যাদেরকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়:


বাংলাদেশে চলমান ১৮৭৮ সালের Arms Act ও ১৯২৪ সালের Arms Rules এর আওতায় সামরিক/বেসামরিক/অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে নিম্নবর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অনিষিদ্ধ বোরের আগ্নেয়াস্ত্রসমূহের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

শর্তসমূহ:
১। যে কোন ব্যক্তি একটি লং ব্যারেল (বন্দুক/শর্টগান/.২২ বোর রাইফেল) এবং একটি শর্ট ব্যারেল (এনপিবি রিভলবার/পিস্তল) সর্বোচ্চ দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

২। আবেদনকারীর বয়স শর্ত ব্যারেল আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ (ত্রিশ) বছর এবং লং ব্যারেলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২৫ (পঁচিশ) বছর হতে হয়।

৩। আবেদনকারীকে অবশ্যই আয়কর দাতা হতে হয়। শিল্পপতি/বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বছরে ন্যূনতম ২.০ (দুই লক্ষা) টাকা আয়কর প্রদান করতে হয়।

৪। আবেদনকারীর অনুকূল পুলিশ প্রতিবেদন থাকতে হয়।

৫। অনিষিদ্ধবোরের সকল প্রকার লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রদান করা হয়। তবে পিস্তল ও রিভলবার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ আবেদনকারীর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে রিভলবার/পিস্তল লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুর্বানুমতির জন্য প্রেরণ করবে। অন্যান্য লং ব্যারেল অস্ত্রের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স প্রদান করেন।

৬। সরকারের উপ-সচিব ও তদুর্ধ পরযায়ের কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর মেজর ও তদুর্দ পরযায়ের কর্মকর্তা ও সমমরযাদা সম্পন্ন কর্মকর্তাগণকে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

৭। বার্ধক্যজনিত/মৃত্যুজনিত কারণে উত্তরাধিকারীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তর প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ সম্পন্ন করেন। এক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী মৃত ব্যক্তির Death Certificate, ওয়ারিশান সনদ, লাইসেন্সধারী/ওয়ারিশগণ কর্তৃক ১৫০/- (একশত পঞ্চাশ) টাকার স্ট্যাম্পে নাদাবি হলফনামা, অনুকূল পুলিশ প্রতিবেদন, বয়স প্রমাণের সনদপত্র ইত্যাদি প্রয়োজন।

৮। মেরামত অযোগ্য/ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রের পরিবর্তে নতুন অস্ত্র সংগ্রহ/ক্রয়, অস্ত্রের ধরন পরিবর্তন (অনুমতিসাপেক্ষে) করা যাবে। তবে লাইসেন্সে লিপিবদ্ধকরণের ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রয় করা যাবে না।

৯। কোন লাইসেন্সধারী ব্যক্তিকে অস্ত্র ক্রয়ের ৬ (ছয়) দিনের মধ্যে লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিকট ক্রয়কৃত অস্ত্র উপস্থাপন করে লাইসেন্সে অস্ত্রের তথ্যাটি লিপিবদ্ধ করতে হয়।

১০। আবেদনকারী যদি আর্মি এ্যাক্টের আওতাধীন ব্যক্তি হন (সামরিক কর্মকর্তা) তাহলে নিজ স্থায়ী আবাসস্থলের সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে আবেদন করতে পারেন।

১১। আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রাপ্তির সকল আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দাখিল করতে হয়।

লাইসেন্স ও নবায়ন ফি:
আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন:-
১. বীচ লোডিং পিস্তল/রিভলবার/রাইফেল–
লাইসেন্স ফি–৪,০০০/-
নবায়ন ফি–২,০০০/-

২. ব্রীচ লোডিং শটগান/বন্দুক–
লাইসেন্স ফি–২,০০০/-
নবায়ন ফি–৮০০/-

৩. ব্রীচ লোডিং ছাড়া অন্যান্য অস্ত্রের ক্ষেত্রে–
লাইসেন্স ফি–৮০০/-
নবায়ন ফি–৪০০/-

১। আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ফি একবারের জন্য প্রযোজ্য তবে লাইসেন্স নবায়ন ফি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জেএম শাখায় ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নবায়ন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ ৩১ জানুয়ারী পরযন্ত জরিমানা ছাড়া নবায়ন করতে পারেন। উক্ত সময়ের পরে নবায়ন করতে হলে জরিমানা প্রদানসাপেক্ষে লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। উল্লেখ্য, জরিমানার পরিমাণ মূল লাইসেন্সে প্রদেয় টাকার সমপরিমাণ।

২। সশস্ত্রবাহিনীতে কর্মরত/অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্যগণ নিজ কর্মস্থল/বর্তমান আবাসস্থলের সন্নিকটস্থ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নবায়ন করতে পারবেন। আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ক্যান্টনমেন্ট একজিকিউটিভ অফিসারগণের মাধ্যমে ও আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেন। তবে উক্ত নবায়নের বিষয়ে লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ (সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কে অবশ্যই অবহিত করতে হবে।

৩। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে চাকুরীর বদলীজনিত বা অবসরগ্রহণের কারণে বেসামরিক কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ তাদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নিজ কর্মস্থল/বর্তমান আবাসস্থলের সন্নিকটস্থ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে নবায়ন করতে পারবেন। উক্ত নবায়নের তথ্য অবশ্যই লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ (সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কে অবহিত করতে হবে।

৪। Arms Rules 1924 এর Chapter – III এর ৫০ বিধি অনুযায়ী কোন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ট্রান্সফারের আবেদন করলে তা যথানিয়মে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিষ্পত্তি করবেন। তবে এক্ষেত্রে লাইসেন্স ইত্যুকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি থাকতে হবে।

👉 ঔষধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে
ড্রাগ লাইসেন্স এর কপি।

👉 ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি।

ট্রেড লাইসেন্স করতে কত টাকা ফি লাগে?

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় এর স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর – ১ শাখা হতে বিশেষ প্রজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স এর ফি নির্ধারন করা হয়। ব্যবসার ধরন এর উপর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স এর ফি নির্ধারন করা হয়ে থাকে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যাবে।

কারা ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবেন?

নারী, পুরুষ উভয়ই ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে তবে অবশ্যই তাকে কোন না কোন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে হবে। বয়স ১৮ বছর এর উপরে হতে হবে।

একটি ট্রেড লাইসেন্স কি একাধিক ব্যবসায় ব্যবহার করা যায়?

না, একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু মাত্র একটি ব্যবসার জন্যই প্রযোজ্য অর্থাৎ যে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয় শুধুমাত্র সেই ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে, অন্য কোন ধরনের ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।নতুন কোন ব্যবসা শুরু করলে তার জন্য নতুন ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে।

একটি ট্রেড লাইসেন্স কি একাধিক ব্যাক্তি ব্যবহার করতে পারবেন?

না, একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু মাত্র একজন ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তা ব্যবহার করতে পারবেন অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তার নামে ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয়েছে এটি শুধুমাত্র তার জন্যই প্রযোজ্য। এটি কোনভাবেই হস্তান্তর যোগ্য নয়।

ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে এবং কোথা থেকে নবায়ন করতে হয়?

যে অফিস থেকে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়, সেখান থেকেই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা হয়। ট্রেড লাইসেন্স সাধারনত ১ বছর এর জন্য ইস্যু করা হয়। প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। পুরানো ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে নতুন করে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়।

ট্রেড লাইসেন্স ও টিন (TIN) সার্টিফিকেটের সম্পর্ক :

alt="এখন থেকে ই-টি সার্টিফিকেট অনলাইনেই চেক করুন"


ট্রেড লাইসেন্স ও Proprietorship ব্যবসার লাইসেন্স - ধরুন, আপনি একটা দোকান করতে চাচ্ছেন সেটার জন্য আপনাকে সিটি কর্পোরেশন থেকে একটা ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে। মেয়াদ শেষে আপনাকে এটা আবার রিনিউ করতে হবে। আঞ্চলিক সিটি কর্পোরেশন থেকেও এটি করাতে পারবেন। ধরুন, আপনি মিরপুর থাকেন, সেখানে সিটি কর্পোরেশন থেকে আপনি কাজটি করাতে পারবেন। যেখানে সিটি কর্পোরেশন নেই সেখানে খুব সম্ভবত কাজটি পৌরসভা থেকে করাতে হয়। আর টিন হলো করদাতার ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নাম্বার মানে আপনি যদি করদাতা হন বা হতে চান আপনার প্রথম কাজ টিন (TIN) সার্টিফিকেট নেয়া। যারা কর দেন না তাদের টিনের প্রয়োজন পরেনা/ থাকেনা। ট্রেড লাইসেন্স বৈধ ব্যবসার প্রমাণ আর টিআইএন আপনার কর দেয়ার প্রমাণ। গাড়ি, জমি, বাড়ি এ ধরণের নানা কাজে টিন (TIN) নাম্বার দেখানো বাধ্যতামূলক।

Tax Clearance Certificate / TIN Certificate কি কাজে লাগে?

১) আমদানি রফতানির (IRC) লাইসেন্স পেতে।

২) আমদানির জন্য L/C খুলতে।

৩) সিটি কর্পোরেশন ও পৌরএলাকাতে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে।

৪) জমি, দালান, ফ্ল্যাট ইত্যাদি ক্রয়ের রেজিস্ট্রেশান করতে (অনিবাসি করদাতাদের ক্ষেত্রে নয়)।

৫) পণ্য বা সেবা সরবরাহ কাজের জন্য দরপত্র জমা দিতে।

৬) গাড়ি রেজিস্ট্রেশান, মালিকানা পরিবরতন, ফিটনেস নবায়ন করতে।

৭) ৫০০,০০০ টাঁকার উপরে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্টান হতে লোন নিতে।

৮) ক্রেডিট কার্ড নিতে।

৯) কোন পেশাদারি কাজের প্র্যাকটিস এর জন্য লাইসেন্স নিতে, যেমনঃ ডাক্তার, প্রকৌশলী, ইত্যাদি।

১০) কোন কম্পানির শেয়ারহোল্ডার হতে হলে।

১১) আইএসডি টেলিফোনে লাইন পেতে।

১২) বাণিজ্যিক কাজের জন্য গাস, বিদ্যুৎ এর লাইন পেতে।

১৩) ড্রাগ লাইসেন্স পেতে।

১৪) কোন ক্লাব এর সদস্য পদ পেতে।

১৫) কোন ব্যবসায়িক সংগঠনের সদস্য পদ নবায়ন করতে।

১৬) কোন দালান নির্মাণের প্লান অনুমদনের ক্ষেত্রে।

১৭) নিকাহ রেজিস্ট্রেশান লাইসেন্স পেতে।

১৮) জরিপ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্টানের লাইসেন্স নবায়ন করতে।

১৯) বিমা সারভেয়ারদের লাইসেন্স নবায়ন করতে।

২০) বিমা কম্পানিএর এজেন্টদের সার্টিফিকেট নবায়ন করতে।

২১) ইট ভাটার আনুমদন বা লাইসেন্স নবায়ন করতে।

২২) নির্বাচনের জন্য নমুনেশন পত্র জমা দিতে।

আজকের আর্টিকেলটি (ট্রেড লাইসেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন? আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও টিন সার্টিফিকেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা)  পছন্দ হলে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দেয়ার অনুরোধ রইলো। আর যদি আপনাদের মনে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে তা নিচে কমেন্ট করেও জানাতে পারেন।

যে কোন আইনী পরামর্শের জন্যে যোগাযোগ করতে ইমেইল করুন -
Email: info.shuhag@gmail.com
অথবা,
কন্টাক্ট বক্সে মেসেজ করতে পারেন।

নবীনতর পূর্বতন