মজলিসের কাফফারা কিভাবে করতে হয়? মজলিসের কাফফারার দোয়া

আড্ডা বা মজলিস 

আমরা প্রায় প্রতিদিন'ই বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন কিংবা পরিবারের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে অযাচিত, অহেতুক, অপ্রয়োজনীয় কথা বলে থাকি। অনেক সময় ভালো উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়েও আমরা ভুল উত্তর দিয়ে থাকি। তাই- কথা বলার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। হাদীসের এসেছে, কথা বলা যদি রৌপ্য হয় তবে চুপ থাকা হচ্ছে সোনা।

 মজলিসের কাফফারার দোয়া :

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

মজলিসের কাফফারার দোয়ার উচ্চারণ : 

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানা কাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লা আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইক।

মজলিসের কাফফারার দোয়ার বাংলা অনুবাদ : 

হে আল্লাহ! আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং প্রশংসা ব্যক্ত করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া অন্য কোন মা‘বুদ নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং আপনার দিকেই ধাবিত হচ্ছি। (সুনান তিরমিজি, হাদীস নং-৩৪৩৩)

(১) হযরত আবু  বারযাহ (রাযিঃ) বর্ননা করেন যে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ বয়সে এই অভ্যাস ছিল যে, যখন মাজলিস হইতে উঠিবার এরাদা করিতেন তখন-

سُبْحَانَكَ اَللهم وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنتَ أسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيكَ

পড়িতেন। এক ব্যাক্তি আরজ করিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ, আজকাল আপনি একটি দোয়া পাঠ করেন যাহা পূর্বে করিতেন না। তিনি এরশাদ করিলেন,এই দোয়া মাজলিশের (ভূল ভ্রান্তির জন্য কাফফারা স্বরূপ)।

অর্থঃ আয় আল্লহ! আপনি পবিত্র, আমি আপনার প্রশংসা করিতেছি, আমি সাখ্য দিতেছি যে, আপনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাহিতেছি এবং আপনার নিকট তওবা করিতেছি।’ (আবু দাউদ)

(২) আবু উবায়দা ইবন আবু সাফার কুফী এর নাম হল আহমাদ ইবন আবদুল্লাহ হামদানী (রহঃ) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ কেউ যদি কোন মজলিসে বসে আর তাতে সে অধিক অনর্থক কথাবার্তা বলে ফেলে তবে মজলিস থেকে প্রস্থানের পূর্বে এই দোয়া পাঠ করলে সেই মজলিসে তার যে ত্রুটি হয়েছে তা মাফ করে দেওয়া হবে। দোয়াটি হচ্ছে :

سُبْحَانَكَ اَللهم وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنتَ أسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيكَ

(৩)  হযরত জুবায়ের ইবনে মুতইম (রাযিঃ) বর্ননা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি যিকিরের মজলিশের (শেষে) এই দোয়া পড়িল-

سبحان الله و بحمده

سُبْحَانَكَ اَللهم وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنتَ أسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيكَ

এই দোয়া সেই জিকিরের মজলিশের জন্য এইরূপ, যেরূপ (গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্রের উপর) মোহর লাগাইয়া দেওয়া হয়। অর্থাৎ এই মজলিশ আল্লাহ তায়ালার নিকট কবুল হইয়া যায় এবং উহার আজর ও সওয়াব আল্লাহ তায়ালার নিকট রক্ষিত হইয়া যায়। আর যদি এই দোয়া এমন মজলিশে পড়া হয় যেখানে অযথা কথাবার্তা বলা হইয়াছে তবে এই দোয়া উক্ত মজলিশের কাফফারা হইয়া যাইবে। (মুস্তাদরাকে হাকিম)

৪- حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ الْكُوفِيُّ، - وَاسْمُهُ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ جَلَسَ فِي مَجْلِسٍ فَكَثُرَ فِيهِ لَغَطُهُ فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِهِ ذَلِكَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ ‏.‏ إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ فِي مَجْلِسِهِ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক মজলিসে বসে প্রয়োজন ছাড়া অনেক কথাবার্তা বলেছে, সে উক্ত মাজলিস হতে উঠে যাওয়ার আগে যদি বলেঃ  ‘‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।’’ - “হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য। আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ব্যতীত আর কোন মা’বূদ নেই, তোমার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”, তাহলে উক্ত মাজলিসে তার যে অপরাধ হয়েছিল তা ক্ষমা করে দেয়া হবে। (তিরমিযী হাঃ ৩৪৩৩)

সানা'র বিষয়ে হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন সর্বশক্তিমান  আল্লাহকে প্রতিটি জায়গায় স্মরণ করে। সুতরাং সে আল্লাহকে স্মরণ করবে যে কোনো সভা,মিটিং, প্রোগ্রাম, আলোচনার স্থান, সফর, বাসস্থান,দাওয়াত এবং ভোজ ও ওয়ালিমার অনুষ্ঠানসমূহে তথা তার জীবনের সমস্ত শাখা-প্রশাখায়।

আজকের আর্টিকেলটি (মজলিসের কাফফারা কিভাবে করতে হয়) পছন্দ হলে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দেয়ার অনুরোধ রইলো। আর যদি আপনাদের মনে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে তা নিচে কমেন্ট করেও জানাতে পারেন।

নবীনতর পূর্বতন