বিসিএস রিটেন পরীক্ষায় প্রস্তুতির কৌশল | ২৪ ঘন্টায় বিসিএস রিটেন প্রস্তুতি | সরকারি চাকরির রিটেন প্রস্তুতি

বিসিএস রিটেন প্রস্তুতি

 এস.এম.আলাউদ্দিন মাহমুদ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সুপারিশপ্রাপ্ত) : 

বিসিএস রিটেন (লিখিত) পরীক্ষায় প্রস্তুতির কৌশল এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি চাকরির রিটেন পরীক্ষাতেও নিচের টিপস গুলো কাজে লাগবে। তাই মনোযোগ দিয়ে পড়ে ব্যাপারগুলো বুঝার ও আয়ত্ত করার চেষ্টা করুন।

তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক, বিসিএস রিটেন পরীক্ষায় কৌশল অবলম্বন করে কিভাবে মাত্র ২৪ ঘন্টায় নিজেকে প্রস্তুত করবেন এবং বিসিএস বা যে কোনো সরকারি-বেসরকারি চাকরির রিটেন পরীক্ষায় কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত :

১। যেকোনো পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে পরীক্ষার হলে সময়ের সঠিক ব্যবহার করা অর্থাৎ সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্ট।

যেমনঃ

আপনি একটি প্রশ্ন খুব ভাল পারেন। এবং এটার জন্য মার্ক হচ্ছে ৫ /১০।

আপনি যদি এই ৫/১০ মার্কের জন্য অধিক সময় ব্যয় করেন পরবর্তীতে দেখা যাবে আপনি সময়ের অভাবে ৩০/৪০ মার্ক উত্তর করতে পারেন নাই বা এমন ভাবে করেছেন যে পরীক্ষক আপনার লেখা বুঝতে পারছেন না। আপনি যদি ৩০/৪০ নাম্বার উত্তর না করে বাকী ১৭০/৮০ যতই ভাল লিখুন না কেন, কখনোই যে ছাত্র সময় মেইনটেইন করে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একইভাবে ২০০ মার্ক উত্তর করেছে তার চেয়ে বেশি নাম্বার পাবেন না, এটা নিশ্চিত । তাই পরীক্ষার হলে টাইম মেইনটেইন করতে চাইলে শুরুতেই সচেতন ভাবে সময়কে যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। একটি ১০ মার্কের প্রশ্নের জন্য ১২ মিনিটে যতটুকু সময় লিখতে পারবেন লিখবেন। পেইজ সংখ্যা বিষয় না। আপনি যদি প্রতি ৪ মিনিটে ১ পেইজ লিখতে পারেন তাহলে ১২ মিনিটে ৩ পেইজ লিখতে পারবেন অর্থাৎ ১০ মার্কের জন্য ৩ পেইজ । এটা নির্ভর করবে আপনার হাতের লেখার উপর । কখনোই ১২ মিনিটের জায়গায় ২০ মিনিট সময় নিয়ে লিখতে যাবেন না। ১২ মিনিটের জায়গায় বড়জোর ১৪ মিনিট এর বেশি না। ১২মিনিট হলেই পরবর্তী প্রশ্নে চলে যাবেন৷

২। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন অর্থাৎ একটি ৪ মার্কের প্রশ্নের জন্য ৭.২ মিনিট সময়ে যতটুকু লিখতে পারবেন লিখবেন অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত ৪০ মার্ক ৭২ মিনিটে লিখে শেষ করতে হবে। প্রতিটি ১৫ মার্কের প্রশ্নের জন্য ২৭ মিনিট করে লিখতে পারবেন। এই ২৭ মিনিটে যত পেইজ লিখতে পারেন লিখবেন।

৩। বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। তাই শুরু থেকেই টাইমকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে হবে৷ কম্পিউটারের ২৫ মার্কের জন্য ৪৫ মিনিট আর ইলেকট্রনিকস ৬ টি প্রশ্নের জন্য ২৭ মিনিট সময় পাবেন। আর বাকী সময় অর্থাৎ ১০৮ মিনিট বিজ্ঞান লেখার জন্য বরাদ্দ রাখবেন৷ অনেকেই সময়ের অভাবে বিজ্ঞানে ১০০ উত্তর করতে পারে না। এটা মাথায় রাখবেন, যে কোন মূল্যে ১০০ লিখতে হবে।

৪। সরাসরি উত্তর না লিখে সংক্ষিপ্তভাবে তিন/চার লাইনের একটা ভূমিকা লিখতে চেষ্টা করবেন এবং শেষেও তিন/চার লাইনের উপসংহার দিতে চেষ্টা করবেন।

যেমন ধরেন, আসলো সাত জন বীরশ্রেষ্ঠ এর নাম লিখুন?

তখন আপনি সরাসরি নাম লেখার আগে এভাবে লিখতে পারেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তাদেরকে পরবর্তীতে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করেছেন সরকার। তার মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ হচ্ছে সর্বোচ্চ খেতাব।

নিম্নে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ এর নাম দেওয়া হল,

এইভাবে প্রত্যেকটা প্রশ্নে লেখার চেষ্টা করবেন।

৫। পরীক্ষার সময় নীল কালি ব্যবহার করে আপনি গুরুত্বপূর্ণ লাইন বা তথ্য নীল কালিতে আন্ডার লাইন না করে সরাসরি নীল কালি দিয়ে লিখে দিবেন এতে সময় লাগবে কম এবং পরীক্ষক সহজেই আপনার খাতার মূল বিষয় পড়তে পারবেন।

৬। পরীক্ষার সময় এইদিক ওইদিক তাকাবেন না অর্থাৎ কে কি লিখছে তা দেখতে যাবেন না। অনেক সময় দেখা যাবে পাশের জন অনেক বেশি লিখছে, এতে মনে হবে আপনি কিছুই পারেন না বা আত্মবিশ্বাস কমে যাবে, তাই এইদিক-ওইদিক তাকাবেন না।

৭। যেকোনো মূল্যে গনিত ও মানসিক দক্ষতা ছাড়া বাকী বিষয়গুলো কমন না পড়লেও চিন্তা করে বানিয়ে বানিয়ে সব লিখে দিয়ে আসবেন অর্থাৎ কোন কিছু বাদ দেওয়া যাবে না ।

৮। কোন পরীক্ষা খারাপ হলেই বাকী পরীক্ষা না দেওয়ার মত বোকামির কাজ করবেন না। সবগুলো পরীক্ষা দিবেন।

৯। বেশি লিখলেই বেশি নাম্বার পাবেন এটা কিন্তু ঠিক না বরং সঠিকভাবে কম লিখেও অধিক নাম্বার পাবেন। তাই যথাসম্ভব দ্রুত সঠিক ও প্রাসঙ্গিক উত্তর দিতে চেষ্টা করবেন।

১০। পরীক্ষার প্রশ্ন পেয়ে সাথে সাথে লেখা শুরু করার পূর্বে এক/দুইবার ভালভাবে প্রশ্নটা পড়ে নিবেন আসলে কী চাচ্ছে প্রশ্নে সেটা বুঝার জন্য। অনেক সময় দেখা যাবে পরীক্ষায় আসছে দুইটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক কি কিন্তু আপনি ভাল করে না পড়ে দুইটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য লিখেছেন, এইরকম ভুল যেন না হয়।

১১। পরীক্ষার খাতায় নিজের রুল ও বিষয় কোড ও নিজের নাম ও সাক্ষর সুন্দর ভাবে লিখবেন এবং হাজিরা খাতায় সেইম সাক্ষর করবেন। পরীক্ষার মেইন খাতায় ২০ টা পৃষ্ঠা থাকে। লেখা শুরু করার আগে দেখে নিবেন ভিতরে কোন পাতা ছেড়া আছে কি না বা কম আছে কি না। অতিরিক্ত পেইজ নিলে OMR এ অবশ্যই বৃও বরাট করবেন৷

১২। পরীক্ষার সময় সবগুলো রিভিশন দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই এইটা পড়ি নাই, ওটা পড়ি নাই - এগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না। পরীক্ষার হলে প্রশ্ন পেলে আপনার সহজেই মনে আসবে ইনশাআল্লাহ।

আজকের আর্টিকেলটি (বিসিএস রিটেন পরীক্ষায় প্রস্তুতির কৌশল) পছন্দ হলে শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দেয়ার অনুরোধ রইলো। আর যদি আপনাদের মনে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে তা নিচে কমেন্ট করেও জানাতে পারেন।

নবীনতর পূর্বতন