জামালগঞ্জে পিআইসির বাঁধে অনিয়ম | প্রতিবাদের ভাষা জানা নেই কৃষকের

পিআইসি বাঁধ (সূত্রঃ সুনাম কন্ঠ)

 চলতি মার্চের বর্ধিত সময় হওয়ার পরও জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখনও শেষ হয়নি।

জামালগঞ্জ উপজেলার হাওরগুলোর বিভিন্ন বাঁধ প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শনে স্পষ্ট হয়ে উঠে কতটা অযত্ন আর অবহেলায় কৃষকের লালিত স্বপ্নকে উপহাস করছে বাঁধের সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম আর দায়হীন কর্মকাণ্ড। কোথাও কোথাও সামান্য এক-আধ ফুট কাজ করে বাঁধের উপরিভাগ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বিপজ্জনক ক্লোজারগুলোর অবস্থা আরো আশঙ্কাজনক। বাঁধের উপরে ও দু’পাশে ঘাস লাগানো এবং এসবের পরিচর্যা করার বাধ্যবাধকতা থাকা স্বত্বেও প্রকল্পে পিআইসির কারো দায়িত্বশীলতা দেখা যায়নি। কিছু কিছু বাঁধে লোক দেখানো ঘাস লাগানোর প্রচেষ্টা চোখে পড়লেও তা কখনোই যথেষ্ট না। দায়িত্ব পালনে খেয়ালিপনাই আজকের কৃষকের চোখের জলের কারণ।


বেহেলী ইউনিয়নে বৌলাই নদীর দু’পাশের বাঁধগুলোর বেহাল দৃশ্য চোখে পড়ে। বিস্তীর্ণ হালির হাওরের ফসল রক্ষায় স্থানীয় বদরপুর গ্রাম থেকে হাওরিয়া আলীপুর অভিমুখী ২০নং পিআইসির বেহালদশা দেখা গেছে। বৌলাই নদীর তীর ঘেঁষে এই প্রকল্পে ঘইন্যারখাড়া নামক স্থানে নতুন একটি ক্লোজার বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এটি নদীর তলদেশ অবধি খাড়া অবস্থায় থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এই ক্লোজারটিতে এখনও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এই প্রকল্পের অনেকাংশে কেবল মরা ঘাস দিয়ে ঢেকে দিয়েছে পিআইসির লোকেরা।

১৯নং পিআইসির প্রকল্পের অনেকাংশ জুড়েই বাঁধে ফাটল ধরেছে, যা ভারী বর্ষণে নিশ্চিহ্ন হবার পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্পের মাহমুদপুর ক্লোজারটি গত বছরের পুরাতন বাঁশখোঁটার আঁড় দিয়েই চালিয়ে দিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। এই ক্লোজারটির সর্বত্রই ফাটল দেখা গেছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলেই বাঁধের দু’পাশ ধ্বসে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

১৬নং পিআইসির বাঁধের অবস্থাও অসমাপ্ত রয়ে গেছে। সেখানে বাঁধের দুপাশের মাটি এলোপাথাড়ি ছড়িয়ে পড়ছে। স্টিক পরিচর্যা করে ঘাস লাগানোর কোন চিহ্নই নেই। একইভাবে ১৭নং পিআইসির প্রকল্পেরও বেহাল দশা।

অপরদিকে ৫নং এবং ৬নং পিআইসির প্রকল্পে পুরাতন বাঁধেকেই নবায়ন করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। ৬নং পিআইসির ক্লোজারটির কাজ এখনও সমাপ্ত হয়নি।

সাধারণ কৃষক ও স্থানীয় লোকজন পিআইসির কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রতিবাদ করার ভাষা তাদের জানা নেই। তবে তারা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের আন্তরিক পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জোড় দাবি জানিয়েছেন।  

নবীনতর পূর্বতন