নবীগঞ্জে ভাগিনার হাত ধরে পালিয়ে গেলেন মামী

লজ্জা 

 হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের দেবপাড়া গ্রামের বিজনা নদীর পাড়ে দিন মজুর আমিন মিয়ার বাড়ী৷ তিনি পেশায় একজন অটো রিকশা শ্রমিক। প্রায় এগারো বছর আগে ২০১১ সালে বিয়ে করেন আমিরুন আক্তারকে৷ তাদের ঔরসজাত দুটি শিশু সন্তানও রয়েছে, বড় ছেলে কামরুল (৯) ছোট ছেলে সাইদুর (৭)। জানা গেছে,  সংসার জীবনে ঐ দম্পতি মোটামুটি সুখ শান্তিতেই ছিলেন৷

আমিন মিয়া জানান, গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সাল থেকে আমিরুন আক্তার তারই প্রতিবেশী মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে (সম্পর্কে ভাগিনা, ১৬ বছর বয়স) কিশোর মকবুল সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হন। ইতিপূর্বে কয়েকবার ঘরথেকেও পালিয়ে যান মকবুলের হাতধরে৷ তবে গ্রামবাসী ও স্থানীয় সামাজিক বিচারের মাধ্যমে এমন অপকর্মে আর কখনো জড়িত হবেন না মর্মে তাকে আবারো তৎকালীন সময়ে দিনমজুর শ্রমিক আমীনের ঘরে দেয়া হয়৷

এদিকে ঘটনার জেরধরে গত ১২ ফেব্রুয়ারী হবিগঞ্জ নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামায় আমিরুন আক্তার তার স্বামীকে তালাক প্রদান করে গোপনে মকবুলের সাথে পুনঃরায়  পরকীয়ায় লিপ্ত হয়৷

এ ঘটনার পর আবারো পাড়া প্রতিবেশী তাকে আমীনের সংসারে থাকার জন্য অনুরোধ করে মকবুলের সঙ্গ ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ জানান৷ তবে আমিরুন আক্তার তার সিদ্ধান্তে অটল। আমিরুন তার পরকীয়া প্রেমিক ভাগিনা মকবুলের হাতধরে গত মঙ্গলবার আবারো দিনদুপুরে পালিয়ে গিয়ে মকবুলের বাড়িতে উঠে।

এদিকে মকবুলের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়াতে স্থানীয় সংরক্ষিত ইউপি মহিলা সদস্য মায়ারুন বেগম সহ এলাকার সামাজিক বিচারকদের মাধ্যমে আমিরুন আক্তারকে তার পূর্বের স্বামীর ঘরে দিতে চাইলে সে তাতে অনীহা প্রকাশ করে বলে, মরতে হলে মকবুলের ঘরেই মরবো, তবুও সে আর কোথাও যাবেনা।যেহেতু মকবুল তাকে ভালবেসে হাত ধরে নিয়ে এসেছে, সে মকবুলের কাছথেকে স্ত্রীর মর্যাদা চায়৷ 

অপরদিকে কিশোর মকবুলের অপ্রাপ্ত বয়স হওয়াতে সামাজিক বিচারকেরা পড়েন বেকায়দায়, তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি বলেও জানা যায়৷

আমিরুনের সাবেক স্বামী আমিন মিয়া তার দুটি অবুঝ শিশু সন্তান নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে ৷ আমিন মিয়ার বরাত দিয়ে জানা যায়, এ পর্যন্ত তার স্ত্রী আমিরুন ৩ বারের মতো ঘরথেকে পালিয়েছে এবং তার উপরে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তাকে তালাক প্রদান করেছে। তিনি আরো জানান,আমিন মিয়া ও তার সন্তানেরা এই আমিরুনকে আর চাননা৷

এব্যাপারে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য মায়ারুন বেগমের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গসহ গোপলার বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের সহায়তায় রমজান মাসের পূর্বেও আরেকবার এ বিষয়টি সুরাহা করেছিলেন তারা কিন্তু এর পরও আমিরুন আক্তার বার বার একই অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন, যা সামাজিকভাবে কখনোই মেনে নেবার মতো নয়৷

উক্ত ঘটনায় এলাকায় নানা ধরনের মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে৷

নবীনতর পূর্বতন