পহেলা বৈশাখ পালন করা হারাম কি না?

পহেলা বৈশাখ 

 প্রত্যেকটি দেশের বা প্রত্যেকটি জাতিরই নির্দিষ্ট কিছু উৎসব থাকে এবং সেই উৎসব যদি ইসলামের কোনো মৈলিক বিষয়ের সাথে বিরোধ না হয় তবে পালন করা যাবে। পহেলা বৈশাখ নামক যে উৎস আমাদের দেশে হয়, এটা শরীয়তের সাথে যে বিষয়ের বিরোধ নাই, শুধু ততুটুকুই পালন করতে পারি। কিন্তু মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানোর নাম করে ছেলেমেয়েদের আবাদ মেলামেশা , ছেলে মেয়েদের গায়ে উল্কী ,গালে উল্কী একে দেয়া এগুলো নাজায়েজ । 

তাছাড়া পেঁচা, হনুমান ইত্যাদির যে মূর্তি তৈরি করা হয় তা ইসলামের আকীদার সাথে একবারে সাংঘার্ষিক। মূর্তিকে ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার জন্য ইব্রাহীম (আঃ) এসেছেন। ইসলামের আলোকে পহেলা বৈশাখ পালন করতে গেলে আমি যে কাজগুলো করতে পারব এবং যে কাজগুলো করতে পারবোনা তার ছোট একটি নমুনা নিম্নে দেয়া হলোঃ

ইসলামের আলোকে পহেলা বৈশাখ পালনে যে কাজগুলো করা যাবেঃ

বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে ভরপুর।আবহমানকাল ধরে সংস্কৃতির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া বিষয়গুলো পালন করা যেতে পারে । যেমনঃ

👍 পান্তা ইলিশ খাওয়া

 👍 নতুন হালখাতা খোলা

 👍 কারো বাসায় বেড়াতে যাওয়া


কিন্তু এমন কিছু ব্যাপার রয়েছে যেগুলোর সাথে আকীদার সংঘর্ষ ঘটে। যেমনঃ

👎মঙ্গল শোভাযাত্রা

👎গায়ে উল্কি আঁকা

👎বেপর্দা হয়ে ঘুরে বেড়ানো

হযরত মহানবী (সঃ) হিজরতে করতে মদীনায় গেলে সেখানে তিনি দুটি উৎসব নিষিদ্ধ করেন। উৎসবগুলো হলো নওরোজ এবং মিহিরজান। নওরোজ হচ্ছে বছরের প্রথম দিন। 

একসময় বাংলা ক্যালেন্ডার এদেশের মানুষের জীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল। তাদের ব্যবসা বাণিজ্য , কৃষি কর্ম বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে চলত। এজন্য পহেলা বৈশাখ হালখাতা অথবা অন্য কিছু সংস্কৃতি ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে বাংলা ক্যালেন্ডারের কোনো প্রয়োজনই নেই। 

কাগজে কলমে যেখানেই যা কিছু করা হোক সব কিছু বর্তমানে নির্ভর করছে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের উপর। যে ক্যালেন্ডারের বাকি ৩৬৪ দি কবে কত তারিখ তা নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা তজাকেনা সেখানে সে ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন এত হইরই করে উৎসব করাটা নিচক বোকামী ছাড়া আর কিছুই নই। বরং এই দিন পালন উপলক্ষ্যে এমন কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যা ইসলামে হারাম। 

তাহলে বুঝতেই পারছেন ইসলামের আলোকে পহেলা বৈশাখ পালন করা হারাম।

নববর্ষ পালন করা কি হারাম? 

নববর্ষ পালন করা কি হারাম কি না তা নিয়ে উপরের আলোচনা যদি আপনি পড়ে থাকেন তাহলে আর বেশি কিছু বলার থাকেনা। ইসলামে দুটি উৎসবকে হালাল করা হয়েছে। দুটি উৎসব হলো ইদুল আযহা এবং ইদুল ফিতর। এই দুইটি উৎসব ছাড়া বাকি অন্য কোনো উৎসব যা ইসলামের আকীদার সাথে সংঘর্ষপূর্ণ সেসব উৎসব পালন করা ইসলামে হারাম। ১ লা বৈশাখ পালন করা হারাম তবে তা যদি হয় আকীদার সাথে না মিলে। পহেলা বৈশাখ পালন করা হারাম কোন কোন ক্ষেত্রে তা নিয়ে উপরে বলা হয়েছে। 


নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ)  কেন হারাম? 

নববর্ষ কেন হারাম আসুন জেনে নিই। নববর্ষকে হারাম করার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। কারণ নববর্ষে দেশীয় ও বিদেশী বেনিয়াগণ ও আদিপত্যবাদীগণ তাদের ব্যবসা বা আধিপত্য প্রসারের জন্য এই দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যা অশ্লীলতা, বেহায়পনা এবং অনৈতিক কর্মকান্ডে ভরপুর। বেপর্দা, বেহায়াপনা , অশ্লীতা, মাদকতা ও অপরাদ একসূত্রে বাধা। যুবক - যুবতীদের অবাধ মেলামেধা ও বেয়াপনার সুযোগ দিবেন অথচ তারা অশ্লীতা, ব্যভিচার , এইডস , মাদকতা ও অপরাদেহের মধ্যে যাবে না এরূপ চিন্তা করার কোন সুযোগ নেই । আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে, বাংলা নববর্ষ কেন হারাম বা ১ লা বৈশাখ পালন করাকে কেন হারাম করা হয়েছে। 

নবীনতর পূর্বতন