রোমানিয়া পাঠানোর কথা বলে প্রায় ১৫ কোটি টাকার প্রতারণা


রোমানিয়ায় পাঠানোর কথা বলে সিলেটের আমিন রহমান ট্রাভেলসের মালিক আমিনুর রহমান প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন প্রতারিতরা। এ ঘটনায় ফখরুল ইসলাম নামের এক প্রতারিত তরুণ বাদী হয়ে এসএমপির কতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

 
বাদী ছাড়াও মোট ১৮ জন প্রতারিত তরুণ-তরুণী মামলার স্বাক্ষী হয়েছেন । তারা নগদ ১ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার প্রদানের ফিরিস্তি এজাহারে উল্লেখ করেছেন। এদিকে, ট্রাভেলস মালিক আমিনুর রহমানসহ তিন ভাইকে এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নিজ গাঁওয়ে। তারা সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের জি ব্লকের ৪ নং রোডের ৯৬ নং বাসার বাসিন্দা এবং তোফাজ্জল আলীর পুত্র।

 
জানা গেছে, কার্যালয়ে তালা দিয়ে পালিয়েছে প্রতারক চক্র। সিলেট নগরী জিন্দাবাজার এলাকার হক সুপার মার্কেটের আমিন রহমান ট্রাভেলসের মালিক আমিনুর রহমানের প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে গত শনিবার। ওই দিন ট্রাভেলস খোলা থাকলেও পরদিন গত রোববার থেকে তালা দিয়ে পালিয়েছে প্রতারক চক্র। ঘটনার দিন রোববারও বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারণার শিকার তরুণরা এসে ভিড় করেছিলেন ট্রাভেলসে।আগত সবাই এসে অফিস বন্ধ পান।

অন্যদিকে, আমিন রহমান ট্রাভেলস মালিকের প্রতারণার ঘটনায় গতকাল রোববার কতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৭০ (২৭/০২/২০২২)। মামলা আমিনুর রহমানসহ অপর দুই ভাইকে আসামী করা হয়েছে। মামলার বাদী দক্ষিণ সুরমার বানেশ্বরপুরের মোঃ আলা উদ্দিন মিয়ার পুত্র ফখরুল ইসলাম। মামলায় ১৮ জন ভুক্তভোগী স্বাক্ষী হয়েছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,তাদের সর্বমোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া, শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বমোট প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

কিছুদিন আগে ৯০ দিনের মধ্যে রোমানিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় ‘আমিন রহমান ট্রাভেলস’। সেই বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয়েছিলেন বিদেশ যেতে আগ্রহী সিলেট অঞ্চলের তরুণ-তরুণীরা।

 
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে বুকিং মানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা ও ওয়ার্ক পারমিট আসার পর দিতে হবে আরও ৫০ হাজার টাকা। বাকি পাঁচ লাখ দিতে হবে ভিসা হওয়ার পর। এসব কথা শুনে রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহীরা লিখিত চুক্তি করে টাকা দেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ৫০ হাজার ও ওয়ার্ক পারমিট আসার কথা বলে আরও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে ভিসা হয়ে যাওয়ার কথা বলে পুরো টাকাও নেওয়া হয়েছে কয়েকজনের কাছ থেকে। কথা ছিল গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লাইট দিবেন। অনেককে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন ট্রাভেলস এর মালিক আমিনুর রহমান। এয়ারপোর্টে গিয়ে ফোন দিলে আমিনুর রহমান আর ফোন ধরেননি। এরপর থেকে আমিনুর রহমানের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, "এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন,যাতে ১৮ জন ভুক্তভোগী তাদের নগদ ১ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। সর্বমোট ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে যার মামলা নং-৭০ (২৭/০২/২০২২)। মামলায় আমিনুর রহমান ছাড়াও তার আরো দুই ভাই সিদ্দিকুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ আসামীদের খুঁজছে"।

নবীনতর পূর্বতন