ধরা পড়েছে রোমানিয়া প্রতারণা চক্রের হোতা আমিনুর রহমান


দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে চাইছিলো রোমানিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতকারী সেই আমিনুর রহমান। তবে দ্রুত পদক্ষেপে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে প্রতারক আমিনুর। 

ঢাকা থেকে বিদেশে যেতে ব্যর্থ হয়ে সিলেটে ফেরার পথে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আমিনুর রহমান সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নিজগাওয়ের তোফাজ্জল আলীর পুত্র।

প্রতারণা মামলায় আমিনুর রহমান ছাড়াও অপর দুই ভাইকে আসামী করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার হক সুপার মার্কেটের আমিন রহমান ট্রাভেলস এর অবস্থান। নাম সর্বস্ব সেই প্রতিষ্ঠান খুলে সিলেটের দুই শতাধিক তরুণের কাছ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন আমিনুর রহমান। সম্প্রতি তরুণদের কয়েকজনের রোমানিয়ায় ফ্লাইট দেয়ার কথা ছিল। তারা আমিনুর রহমানের দেয়া কথা মতো রোমানিয়া যাওয়ার জন্য এয়ারপোর্টেও চলে গিয়েছিলেন। এয়ারপোর্টে গিয়ে আমিনুর রহমানকে ফোন দিলে সে ফোন ধরেনি। বিদেশ যেতে না পেরে গত শনিবার তরুণরা সিলেটের জিন্দাবাজারের আমিন রহমান ট্রাভেলসে এসে জানতে চাইলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। এর দুই দিন আগ থেকে আত্মগোপনে চলে যান আমিনুর রহমান। এরপর ভুক্তভোগীরা এসে ভিড় জমান ট্রাভেলসে। 

গত রোববার দক্ষিণ সুরমার বানেশ্বর পুরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে কতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যাতে ১৮ জন ভুক্তভোগী তাদের নগদ ১ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। সর্বমোট ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয় এজাহারে। মামলা নং ৭০ (২৭/০২/২০২২)। মামলায় আমিনুর রহমান ছাড়াও তার আরো দুই ভাই সিদ্দিকুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে আসামী করা হয়। এর মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান একজন পুলিশ সদস্য।

এদিকে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন আমিনুর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর গত মঙ্গলবার গ্রেফতার হন আমিনুর রহমান।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আমিনুর রহমান এই প্রথম গ্রেফতার হননি। ২০১৫ সালে দেশব্যাপী আলোচিত একটি প্রতারণা মামলায় সহযোগীসহ গ্রেফতার হয়েছিলো সে। অতিদরিদ্র পরিবারের বেড়ে ওঠা আমিনুর রহমান প্রথমে একটি ট্রাভেলসে সহকারীর কাজ করতো। একটা সময় নিজ এলাকায় ‘এডভান্স’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেন। যেখান থেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ নানা কাজ সিলেট শহরের বিভিন্ন ট্রাভেলস থেকে করিয়ে নিতেন। যে কারণে তিনি এলাকায় মোটামুটি অ্যাডভান্স নামেই পরিচিত।

এরপর আর বসে থাকেননি। নিজেই নগরীর রংমহল টাওয়ারের একটি অফিস খুলেন। সেখানে বসে একটি পত্রিকার উপদেষ্টা হিসেবে সংবর্ধিত হয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে থাকেন। এরপর আর অপেক্ষা সয়নি। নিজে সিলেটের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে অফিস খুলেন আমিনুর রহমান। নিজের নামে খুলেন আমিন রহমান ট্রাভেলস। রোমানিয়ার মানুষ পাঠানোর কথা বলে গণমাধ্যমে দেন বিজ্ঞাপন। বাসা ভাড়া নেন নগরীর উপশহরে। বাড়তে থাকে প্রতারণার জাল। এরপর সিলেটের দুই শতাধিক তরুণকে রোমানিয়া পাঠানোর কথা বলে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন আমিনুর।

কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, "আগ থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিলো আসামী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে। তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশনকে অবহিত করা হয়। চতুর্দিক থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। একপর্যায়ে ঢাকায় গিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করতে না পেরে সে পুনরায় একটি বাস যোগে সিলেটে ফিরছিলো এমন তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে সিলেটমুখী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।"

ওসি জানান, বাকী আসামীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শীঘ্রই সিনিয়র অফিসারদের সাথে কথা বলে আসামীকে রিমান্ডে নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

নবীনতর পূর্বতন