জামালগঞ্জে পিআইসির বাঁধে ফাটলে আতঙ্কে আছেন কৃষক

 


সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৬টি হাওরের ফসল রক্ষার জন্য কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ, ভাঙ্গণ বন্ধকরণ ও মেরামত কাজে চলতি অর্থবছরে ৩৬টি পিআইসি গঠনে অনুমোদন পেয়েছে। এর বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।

জামালগঞ্জের সর্ববৃহৎ হাওর পাগনায় ১২টি, হালির হাওরে ১৪টি, শনির হাওরে ৪টি, মহালিয়া হাওরে ৪টি, মিনি পাগনায় ১টি ও জোয়াল ভাঙ্গা হাওরে ১টি পিআইসি রয়েছে। মহালিয়া হাওরে ৪টি পিআইসি’র মধ্যে ৭ ও ৮ নং পিআইসি’র কাজ এখনো ৪০% সম্পন্ন হয়নি, ফলে মহালিয়া হাওরের কৃষকেরা আগাম বন্যায় ক্ষতির আশংকা করছে। অসমাপ্ত কাজের পিআইসি’র সদস্যরা নেই প্রকল্প এলাকায়, তাদের অবহেলায় হাওরের ক্ষতির সম্ভাবনার দাবি করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

পাগনার হাওরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার ৩৪ ও ৩৫নং পিআইসি’র সমন্বয়ে বগলাখালীর খাল এখনো সম্পন্ন হয়নি। গতকাল বুধবার এই ক্লোজারে ফাটল ধরে ধসে পড়ে মাটি। এই পিআইসি দ্বয়ের সদস্যরা আছেন বিপাকে। অতিসত্বর ক্লোজারের কাজ বাঁশ, বস্তা ও জিও টেক্স দিয়ে সম্পন্ন না করলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগাম বৃষ্টিতে বাঁধ ভাঙ্গার সম্ভাবনা বেশী।

২৭নং পিআইসি’র ক্লোজার ও বেরী বাঁধসহ ৩১ ও ৩৩নং পিআইসির অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত না করায় পাগনার হাওরের কৃষকরা আছেন দুশ্চিন্তায়। ৩৩নং প্রকল্প কাজের দূরত্বের ও মাটির পরিমাণ অনুযায়ী বরাদ্দের পরিমাণ বিরাট অসামঞ্জস্য বলে হাওরের স্থানীয় কৃষক ও অন্যান্য পিআইসি’র সদস্যদের মধ্যে বইছে গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড়।

আরো কয়েকটি বেরী বাধ কাজ সম্পন্ন ও কম্পেকশনসহ ট্রেজিং না হওয়ায় বেরী বাঁধগুলো হচ্ছে অনেক দুর্বল। এতে শঙ্কা প্রকাশ করছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা। এ ছাড়াও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বরাদ্দের বিষয় নিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, গত বছরে বগলাখালী ক্লোজারে বরাদ্দ ছিল ২০ লক্ষ টাকা। চলতি বছরে একই ক্লোজারে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ২টি পিআইসি তৈরি করে ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তবুও সময় মতো ক্লোজারের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় হাওর বাঁচাও আন্দোলনের উপজেলা কমিটির সদস্য।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শাহানা আল আজাদ বলেন, আমাদের আন্দোলনের কর্মীরা বাঁধ নির্মাণ কাজ তদারকি করছে। যারা অবহেলা করছে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জনগণের কাজে জবাবদিহি করতে বাধ্য করাব, কেউ ছাড় পাবে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কাবিটা প্রকল্পের সচিব পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো: রেজাউল কবির জানান, "বগলা খালীর বাঁধ জেলা প্রশাসক ও জেলা পাউবো কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছেন। বাঁধে ফাটল ধরেছে শুনেছি, পিআইসি সদস্যদের নিয়ে অবিরাম চেষ্টা চলছে। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। যে সকল প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ মনে হচ্ছে সেই সকল প্রকল্পে উত্তোলিত মাটি ও কার্যক্রম এর হিসাব অনুযায়ী বিল প্রদান করা হবে।"

কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত দেব জানান, "২৮ ফেব্রুয়ারির ভেতরে সকল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে আশা করি। বগলাখালীর ক্লোজার নিয়ে আমাদের মনিটরিং অত্যন্ত জোরদার আছে। মহালিয়া হাওরের দুইটি পিআইসি নিয়ে যে সমস্যা ছিলো আগামীকাল থেকে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।"

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ জানান, "এ বছরে আবহাওয়ার অবস্থা খারাপ। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোনো পিআইসি বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না করতে পারলে তাকে অবশ্যই জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। ফসল রক্ষা করতে সবধরণের প্রস্তুতি আমাদের আছে। কোনো পিআইসি বরাদ্দের তুলনায় কাজের পরিমাণ কম হলে বরাদ্দকৃত অর্থ কর্তন করে দেওয়া হবে। কারণ এ অর্থ জনগণের ট্যাক্সের টাকা।"

নবীনতর পূর্বতন