ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে অসহায় মায়ের মানববন্ধন

ছাতক

 নিজস্ব সংবাদ দাতাঃ  মুুক্তিযোদ্ধার মেয়ে রুপিয়া বেগম। তার একমাত্র ছেলে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো। ছেলে মেহেদী হাসান রাব্বীকে ২০১৯ সনে খুন করে সন্ত্রাসীরা।

একমাত্র ছেলের শোকে শোকাহত এবার বিচারের দাবিতে ভিন্নভাবে প্রতিবাদ করছেন। ব্যানারে নিজের ছেলের ছবি, ছেলের বিভিন্ন সময়ের ছবি বাঁধাই করে গলায় ঝুলিয়ে তিনি খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বুধবার সুনামগঞ্জ আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে একাই প্রতিবাদ করেছেন।

রুপিয়া বেগম ছেলে হত্যার বিচার চেয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে। এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, আইজিপিসহ বিভিন্ন স্থানে ছেলের বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। জামিন নিয়ে খুনীরা তাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলেও তিনি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে জানান।

তিনি আরো জানান ‘পাগলের তকমা’ লাগিয়ে আসামিরা তাকে সামাজিকভাবে নাজেহাল করছে। মানববন্ধনে সন্তানহারা এই মা জানালেন সন্ত্রাসীরা তার মতো আর কোন মায়ের কোল থেকে যেন খালি করতে না পারে। একজন অসহায় মায়ের কান্না আর আহাজারিতে উপস্থিত লোকেরাও অশ্রু ঝরিয়েছেন।

ছাতক উপজেলার নোয়ারাই গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের কন্যা রুপিয়া বেগম জানান, ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলাকায় লিয়াকত আলীর নির্দেশে সন্ত্রাসীরা মেহেদী হাসান রাব্বিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করে'।

এ ঘটনায় ২৬ জুলাই রাতে মা রুপিয়া বেগম ১৭ জনের নামসহ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার চার্জশিট আদালতে প্রেরণ করেছে। এই মামলায় কাউন্সিলর লিয়াকত আলীসহ আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় সন্তানহারা মাকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে জানান তিনি। 

এ ঘটনায় তিনি ছাতক থানা, সিলেট ডিআইজি অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগও করেছেন। রাব্বী হত্যায় জড়িত তারেক হোসেন ২০১৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করেছে। তারেককে চট্টগ্রামের পাহাড়তলি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব।

একাকী মানববন্ধনে রুপিয়া বেগম আরো বলেন, পুলিশ এ ঘটনায় মামলার চার্জশিট প্রদান করেছে। আদালতে বিচারাধীন রয়েছে মামলাটি। বিবাদীর আইনজীবীরা নানা অজুহাতে কেবল তারিখ পেছাচ্ছেন। এই সুযোগে আসামিরা জামিনে থেকে তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে তিনি এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আসামিদের দ্রুত বিচারের দাবিতে তিনি নিরুপায় হয়ে আদালত চত্বরে এসে মানববন্ধন করেছেন বলে জানান।

রুপিয়া বেগম আরও জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) তার ছেলে রাব্বী হত্যা মামলার শুনানীর দিন ছিল। ওইদিনও যাতে শুনানী না হয় সেজন্য বিবাদীরা আইনজীবীদের মাধ্যমে চেষ্টা করেছে।

প্রতিবাদী এই মায়ের কর্মসূচিতে আদালত এলাকায় গিয়ে তার সঙ্গে সংহতি জানান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির সুনামগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চিত্তরঞ্জন তালুকদার। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে

চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, 'নিরুপায় হয়ে ওই নারী একমাত্র ছেলের খুনীদের বিচারের দাবিতে আদালত চত্বরকে বেছে নিয়েছেন। একাকী প্রতিবাদী করে আমাদের দৃষ্টি কেড়েছেন। তিনি বিলাপ করছেন ছেলে হত্যার বিচারের জন্য। আমরাও এই অসহায় মায়ের সন্তান খুনের বিচার চাই'।

এই ব্যাপারে মানবাধিকার নেত্রী ফৌজিআরা শাম্মী বলেন, 'আমরা সন্তানহারা ওই নারীর কষ্টের কথা জানি। আমরাও চাই তার ছেলের খুনীদের বিচার হোক'।

একই সুরে পাবলিক প্রসিকিউটর ড. খায়রুল কবীর রুমেন বলেন, 'আমরাও চেষ্টা করছি ওই সন্তানহারা নারী যাতে তার ছেলের খুনীদের বিচার পান'।

পুত্রশোকে ওই মা এখন আর স্বাভাবিক নেই। তিনি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ছেলের দ্রুত বিচার চাইছেন। 

নবীনতর পূর্বতন