ওসি প্রদীপ ও লিয়াকত আলীর ফাঁসির রায় ঘোষণা

 


বহুল আলোচিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল চারটার পর কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এই আদেশ দেন। মামলার বাকি ১৩ আসামির মধ্যে এপিবিএন’র তিন সদস্যসহ ৬ জনকে বেখসুর খালাস এবং অপর ৭ জনকে যাবজ্জীবন সাজা শুনিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

রায়ের আগে মামলার বিবরণীতে আদালত মন্তব্য করেন যে, লিয়াকত ও নন্দ দুলালের সক্রিয় ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া এই হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে পূর্ব পরিকল্পিত বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তি করে প্রত্যেকের আলদা আলাদা অপরাধগুলো তুলে ধরে সিনহা হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অপরাধ অনুসারে সাজা ঘোষণাকালে প্রধান দুই অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ দুপুর ২টায় মামলায় অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমারসহ ১৫ আসামিদের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তোলা হয়। আসামিদের কাঠগড়ায় তুলে আদালত ৩০০ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে চার্জশিটভুক্ত ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে খুন হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। সিনহা হত্যা মামলার চার্জশিটে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছেন মোট ১৫ জন আসামি। তারা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

রায়ের সকল বিস্তারিত শীঘ্রই আসছে। আমাদের সাথেই থাকুন।


নবীনতর পূর্বতন