শৈত্য প্রবাহে কাঁপছে সারা সিলেট

 


কথায় আছে- ‘ঊন বর্ষায় দুনা শীত’। মৌসুমের শুরুতে শীতের তেমন প্রকোপ ছিল না। কিন্তু পৌষ পেড়িয়ে মাঘ মাসে নগরীতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে । মৃদু শৈত্যপ্রবাহে আর ঠান্ডা বাতাসে কাঁপছে সিলেট বিভাগসহ পুরো দেশ।


সপ্তাহ দুই পরেই আসছে ঋতুরাজ বসন্ত। ঋতুর পালাবদলের মুহূর্তে মাঘের মাঝামাঝিতে এসে শীত যেন তার শেষ আঁচড় দিয়ে যাচ্ছে। শীতের প্রকোপ বেড়েছে হঠাৎ করেই। চলমান  শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে দুপুর বেলার রোদেও আলোতে তেজ নেই, কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো বাতাসের তীব্র শীতে কাবু করছে সিলেটের নাগরিক জীবন।


গত কাল আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে , আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ আরো কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শেষ রাত্রি থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা এবং কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত শনিবারে সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল সকালে ৬৭ শতাংশ এবং শেষ বিকেলে ৫৬ শতাংশ।


সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরীর ভাষ্যমতে, গতকাল শনিবার ছিল সিলেটে চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ রোববার সিলেটের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। তবে, এরপর থেকে আস্তে আস্তে বাড়বে তাপমাত্রা। তিনি আরো জানান যে, ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম দুইদিন সিলেটে হালকা বৃষ্টিপাতের জোড়ালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারী মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হবে এই অঞ্চলে। ওই সময়ের মধ্যে দিনে-রাতের তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের তীব্রতা কমবে না। সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, ২০১১-১২ সাল পর্যন্ত ডিসেম্বরে শীতের তীব্রতা থাকতো সবচেয়ে বেশী। জানুয়ারিতে এসে কমে যেতো শীতের তীব্রতা। কিন্তু, জলবায়ুর পরিবর্তনে গত এক দশকে শীতের তীব্রতা ঠাঁই নিয়েছে জানুয়ারিতে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে ফেব্রুয়ারিতেও শীত অনুভূত হবে।

শীতের এই আবহে স্বাভাবিক জীবন কিছুটা স্থবির, বিপাকে পড়েছেন নগরীর হত দরিদ্র, পথশিশু ও নিম্ন আয়ের লোকজন। তবুও থেমে নেই জনজীবন। জীবিকার তাগিদে ছুটে চলছেন সবাই।


শীতের উপলক্ষকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই পিঠামেলাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। তবে, গত বছরের ন্যায় এই বছরও করোনার ব্যাপক সংক্রমণের কারণে সীমিত করা হয়েছে সব আয়োজন। নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, ঠান্ডা বাতাস ও হাড় কনকনে শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে নগরীর রাস্তাঘাট। মুখে মাস্ক, মাথায় টুপি আর ভারি সোয়েটারে নিজেদের আড়াল করে সবাই ছুটছেন নিজ গন্তব্যে। তবে, বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভূমিহীন, খেতমজুর, ছিন্নমূল, বস্তিবাসী, ভবঘুরে লোকজন শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। তীব্র ঠান্ডায় ফুটপাতেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। কেউ আবার পাতলা চাদর জড়িয়ে ফুটপাথে শুয়ে পার করছেন দিন-রাত। বৃদ্ধ ও ছোট শিশুরা নিদারুণ ঠান্ডায় কষ্ট পাচ্ছেন।


এদিকে, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও শীতের তীব্রতায় বিপাকে পড়েছেন মানুষজন। বিশেষ করে কৃষককুল পড়েছেন বিপদে। কুয়াশা আর শীতের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদও।


জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদরা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, আমাদের বৈরী আচরণে জলবায়ু কতটা পরিবর্তিত হচ্ছে তা প্রকৃতির চরমভাব জানান দিচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ খুব বেশি দায়ী না হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটি।


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের প্রধান নিদর্শন হচ্ছে- শীত বা উষ্ণতা সর্বোচ্চ মাত্রায় ঘটবে এবং ঘন ঘন আবির্ভূত হবে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য সকলকেই সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

নবীনতর পূর্বতন